Connect with us

Uncategorized

পিরামিড রহস্য

Published

on

প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত মহাকীর্তির এক সপ্তম আশ্চর্যের রহস্যময় নিদর্শন পিরামিড, যা এক বিরাট অবৈজ্ঞানিক স্থাপত্যশিল্প। এমন সব নির্মাণশৈলী মিসরবাসীর জন্য একমাত্র দুর্লভ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, রাজধানী কায়রোর অদূরে গিজা নামক স্থানে। বিস্ময়কর পিরামিডের জন্য সারাবিশ্বেই মিসরের সুখ্যাতি আছে, যা দেখার জন্য প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক আসে। মিসরের আরও বিখ্যাত যে ক’টি জিনিস আছে তা হলো—বিশ্বে সবচেয়ে বড় নদী ‘নীল নদ’, কারুনের অভিশপ্ত ধনসম্পদ মহান আল্লাহর গজবে ডুবে যাওয়ার স্থান, যা এখন হ্রদ, ফেরাউনের লাশ বা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর তৈরি একটা বিশেষ মামি, মুসা নবীর তুর পাহাড় ইত্যাদি। মুসা নবী ও আল্লাহর সাক্ষাতের স্থান তুর পাহাড়ে উঠতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এই তুর পাহাড়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি গির্জা। এর পাহাড় চূড়া বেশ ঠাণ্ডা। আর আল্লাহর তৈরি মামি ফেরাউনের লাশ হলো মুসা নবী ও মহান আল্লাহর নির্দেশিত ধর্ম বা তাদের অমান্য করার নিদর্শন। এটা মানুষের তৈরি করা অনেক মমির মধ্যে, মহান আল্লাহর তৈরি করা একটা অলৌকিক মামি। মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিডের উচ্চতা ৪৮০ ফুট ও প্রস্থ ৭৫৬ ফুট। কীভাবে এত বড় বড় বেলে পাথর উত্তোলন করে ওই বিশাল আয়তনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল তার সঠিক মত পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা হয়, ফারাও রাজাদের হাজার হাজার যুদ্ধবন্দি চার পাশের বেলে মাটি দিয়ে উঁচু করেছিল। পরে বড় বড় পাথর খণ্ড ওপরে উঠিয়ে পিরামিড তৈরি করেছিল। শেষে পিরামিডের চারপাশ থেকে ওই বালি মাটি কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আর এভাবেই ওই পিরামিডগুলো তৈরি হয়েছিল বলে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব রহস্যময় পিরামিড ও মমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় গবেষণা করা জার্মানি প্রত্নতত্ত্ববিদ এডিস ভনভনির নাম উল্লেখ্যযোগ্য। তিনি বিশ্বের অনেক পিরামিড নিয়েই খনন কাজ ও গবেষণা করেছেন। ফলে অনেক রহস্য, নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন। আর পিরামিড মূলত প্রাচীন মানুষের সুরক্ষিত কবর। তবে পিরামিড ও মমি শুধু মিসর বা ইজিপ্টেই পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও পাওয়া গেছে।

বহু মমি এমন সুরক্ষিত ও সযত্নে রাখা হয়েছিল, যা দেখে মনে হবে আজও তারা জীবিত! যেন সেই ইতিহাস আজও ঐতিহাসিক কথা বলে। এর মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় মমি পাওয়া গেছে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু অঞ্চলে। যেগুলো তৈরি করেছিল প্রাচীন ইনকা সভ্যতার মানুষরা। ইনকারা এই মমিগুলো হিমায়িত করে রাখত, যাতে তারা পরকালে ওই দেহ থেকেই আবার জীবিত হয়ে উঠতে পারে। তাদের দেহ অক্ষত থাকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা দেশ গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর ইউকাটানের জঙ্গলে পাওয়া গেছে আরেক বিশাল পিরামিডের নগরী। যার সঙ্গে মিসরীয় সভ্যতা ও পিরামিড নগরীর হুবহু মিল রয়েছে। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে অবস্থিত চেলুলার মালভূমি। আর এখানেই পিরামিড নগরীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা আয়তনে মিসরের গির্জা নগরীর পিরামিডের চেয়েও অনেক বড়। তবে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো ওখানকার প্রতিটি পিরামিড গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া গেছে নিখুঁত মায়া পঞ্জিকা বা বছর হিসাব করার ক্যালেন্ডার। সেই পঞ্জিকা অনুসারেই ওই পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি মিসরে যান তাহলে বিস্ময়ের সঙ্গে ভাববেন। কীভাবে প্রায় একজন মানুষের সমান বর্গাকৃতির সিমেন্টের মতো তৈরি খণ্ডগুলো এত ওপরে তুলে ওই পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছে? কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এতে? প্রযুক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে সহজ বালি প্রযুক্তি। তবে সবচেয়ে বেশি গবেষণা চলছে মামি নিয়ে। আর এই গবেষণার ফলে নানা তথ্য আবিষ্কার হয়েছে। তবে জার্মানির প্রত্নতত্ত্ব বিজ্ঞানী এডিস ভনভনির ক্যান শ্রেষ্ঠত্ব আছে। তিনি এই পিরামিডের রহস্য আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন পিরামিড়ের স্থান ভ্রমণ করেছেন। ইনকা সভ্যতার অট্টালিকা ও বিশাল পিরামিডগুলোর প্রাচীর নির্মাণ করতে ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ১০০ টন ওজনের বেলে পাথরের খণ্ড। সেগুলো নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে তৈরি। ১৯৫৩ সালে ককেশাশের উত্তর শাকারায় প্রাচীন সমাধি ক্ষেত্রে এক বিরাট কবর স্থান আবিষ্কার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটা প্রথম রাজবংশ কোনো ফারাওদের কবর হতে পারে। প্রধান কবর ছাড়াও আরও ৭২টি কবর সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। ১৯৫৪ সালে সেগুলো খনন কাজ করা সময় ওখানেই আরও একটি কবর আবিষ্কার হয়। কবরটি আগে কেউ দেখেনি। তার মধ্যে সোনা-দানা মূল্যবান জিনিস সবই রাখা ছিল। ডক্টর গানিদ নামের এক অধ্যাপক কবরে রাখা ওই কফিন বক্সটি বহু কষ্ট করে খুললেন। কিন্তু কি আশ্চর্য সেই সমাধিটির কফিন বক্সটি ছিল ফাঁকা। কোনো মামি তার মধ্যেই পাওয়া যায়নি। রাশিয়ান বিজ্ঞানী রোবেংকো কুরগান একটি পিরামিড আবিষ্কার করেন চীনের উত্তরে চেঙ্গিস খানের দেশ মঙ্গোলিয়ার সীমান্তে। ওই কবরের সবক’টি প্রকোষ্ঠ বরফ দিয়ে আটকানো। ভেতরের সব জিনিস হিমায়িত করে রাখা। প্রধান কবরে রয়েছে একটি পুরুষ ও একটি নারীর মামি।

দৈনন্দিন জীবনযাপনের সব উপকরণই রয়েছে কবরের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে। চীনের সিচুয়ান প্রদেশে অবস্থিত রয়েছে ৪৫ ফুট লম্বা ৩১ ফুট উঁচু ৩৯ ফুট চওড়া একটি পিরামিড। আলপিছ নামক স্থানে পাওয়া গেছে একটি হিমবাহু কবর। সাইবেরিয়ার জমে থাকা তুষারের নিচে পাওয়া গেছে একটি হিমবাহু কবর। সাইবেরিয়াতে পাওয়া গেছে তুষারের মধ্যে কবর বা মামি জেরিকোতে রয়েছে পিরামিডের আদলে নির্মাণ করা ১০ হাজার বছর আগেকার কবর বা মামি। চীনের গোবি মরুভূমিতে পাওয়া গেছে অত্যধিক গরমে গলে যাওয়া কবর বা লাশ, যা প্রায় ১২ হাজার বছর আগের। নমুনা দেখে বোঝা যাচ্ছে, এ কবরে ছিল দুটি ধনী লোকের লাশ। আফ্রিকার নরিয়া লাপাতা মরুভূমি অঞ্চলে আবিষ্কার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিরামিড, যা মিসরের পিরামিডের আদলে তৈরি করা। মধ্য আমেরিকাতে লাখ লাখ পিরামিডের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এদিকে আবার মেক্সিকোতে পাওয়া গেছে ১ লাখ পিরামিড। যার মধ্যে অনেক পিরামিড আছে, যা এখনও কেউ ধরেই দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের দেশ মেক্সিকোর চেলুলার মালভূমিতে যে বিশাল পিরামিড রয়েছে এগুলোই বিশ্বে সংখ্যাধিক পিরামিড, যা মিসরের সর্বাপেক্ষা বড় থিউপসের পিরামিডের দ্বিগুণ। ওই পিরামিডের মধ্যে থেকেই ১৯৫২ সালের ১৫ জুন একটি মামিসহ সোনা-দানা, বিষয়-সম্পত্তি সবই আবিষ্কৃত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো কেন এই পিরামিডগুলো তৈরি করা হতো? কেন মৃত মানবদেহকে মামি করে পিরামিডের মধ্যে রাখা হতো? এটা কি মুসলমানদের মতো পরকাল বা আখিরাতের ওপর বিশ্বাস করে? না কি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে এতে? অতি হিমায়িত করে কোষগুলোকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার চিন্তাভাবনা, এই সে দিন মানুষের মাথায় এলো। অধ্যাপক এটিনজার যে ভবিষদ্বাণী করেছিলেন, ভবিষ্যতে মানুষের মৃতদেহকে নির্দয় ও অমানবিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হবে না, আবার কবরে পচিয়েও ফেলা হবে না। রেখে দেয়া হবে হিমায়িত করে। তারপর চিকিত্সা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে একদিন সেই মৃতদেহকে জীবিত করে তোলা হবে। তাহলে খ্রিস্টপূর্ব ৬ হাজার বছর আগেকার লোকরা কি জানতো এই প্রক্রিয়া, যা আজও আবিষ্কার হয়নি? মামি রহস্যের পেছনে এমন একটা চিন্তাধারা থাকলে থাকতেও পারে। হয়তো তখনকার লোকরা জানতে পেরেছিল, শরীরকে হিমায়িত করে রাখা যায়। তারা এও জানত যে, সুদূর ভবিষ্যতের মানুষ একদিন এই মৃতদেহকে জীবিত করে তুলতে পাবে। তারপর মানুষ আবার ফের জীবিত হয়ে উঠতে পারবে। আর তখন ওই কবরে বা পিরামিডে রাখা জীবনযাপনের সব উপকরণ ও সোনা-রুপা, ধন-সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবে। সে জন্যই পিরামিডকে এমন অক্ষয় ও মজবুত করে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সেগুলো সহজেই ধ্বংস না হতে পারে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Uncategorized

বাংলাদেশে ইসলামের আগমনের ইতিহাস : রাসুল (সা) এর জীবদ্দশায় ইসলাম এদেশে আসে-মাওলানা বি.এইচ.মাহিনী

Published

on

ইসলামের আবির্ভাবের বহু পূর্ব থেকেই আরব বণিকগণ বাণিজ্যের জন্য ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোতে যাতায়াত করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি এ উপমহাদেশের আদি নাম সিন্দ ও হিন্দ পর্যন্ত আরবদের দেওয়া। আরব বণিকরা মালাবার হয়ে চীনের পথে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতেন। চট্টগ্রাম ও মেঘনা তীরের চাঁদপুর ছিল নদীবন্দর। এখান থেকে তারা চন্দন কাঠ, মসলা, সূতী কাপড় ইত্যাদি ক্রয় করে নিয়ে যেতেন। ইতিহাসে এসেছে হজরত ঈসার (আ.) জন্মের কয়েক হাজার বছর আগেও দক্ষিণ আরবের সাবা কওমের ব্যবসায়ীরা পালতোলা জাহাজে করে এদেশে আসত। ওই সাবা কওমের নামানুসারে নামকরণকৃত শহর সাবাউর (উর অর্থ শহর) সাবাউর অর্থাত্ সাবাদের শহর আজও ঢাকার অদূরে সাভার নামে পরিচিত হয়ে এদেশে সাবা কওমের আগমন স্মৃতি বহন করছে।এছাড়া বাররুল হিন্দ (ইন্ডিয়ার ভূখন্ড) বা বরেন্দ্র ভূমির কথা তো সর্বজনবিদিত। ঈসায়ী ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পাক-ভারত ও বাংলাদেশ উপমহাদেশের ব্যাপকভাবে প্রথম ইতিহাস লেখন মওলানা মিনহাজুদ্দীন সিরাজ উত্তর বাংলাদেশকে ‘বাররিন্দ’ বলেছেন। যা পরে ‘বরেন্দ্র’ নামে পরিচিত হয়েছে। এ অঞ্চলকে ‘বাররিন্দ্র’ বলার কারণ ছিল এই যে, আরবরা বিশাল সমুদ্র, সাগর, মহাসাগর পাড়ি দিয়ে জহাজে ভেসে ভেসে বহুদিন পর বঙ্গদেশে তদানীন্তন হিন্দের মাটি বা স্থল দেখে অনন্দে নেচে উঠে চিত্কার করে বলত ‘বাররি হিন্দ’ অর্থাত্ হিন্দের মাটি, যা পরবর্তীকাল বাররিন্দ বা বরেন্দ্রতে পরিবর্তিত হয়ে যায়। খৃষ্টপূর্ব ষষ্ট শতাব্দীতে ইরানের সম্রাট সাইরাস (যুলকারনাইন) উপমহাদেশে আর্যদের অন্যতম রাজ্য গান্ধারা জয় করেন। এ সময় তার তাওহীদী জীবন দর্শনের ছটা এ অঞ্চলব্যাপী পরিবাহিত হয়েছিল। যার পরোক্ষ প্রভাব পরবর্তীকালে সংঘটিত ব্রাক্ষণ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে উপরোক্ত প্রেক্ষিতে ইসলামের শুরুর দিকেই আরব মুসলিম বণিকদের মাধ্যমেই এদেশে প্রথম ইসলামের আগমন ঘটে। বাণিজ্যের পাশাপাশি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে তারা ইসলাম প্রচার করেছিলেন। যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর জীবদ্দশায় হজরতের চাচাত মামা হজরত আবু ওক্কাস উহাইদ বিন মালেকসহ ৪জন সাহাবা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মিয়ানমারের আরাকান এলাকায় ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন। তাঁরা এখান থেকে চীন পর্যন্ত ইসলাম প্রচার করেছিলেন। চীনের ক্যান্টন সমুদ্রতীরে অবস্থিত সাহাবী আবু ওয়াক্কাস মালিক বিন ওহাইবের মসজিদ ও কবর সে সাক্ষ্যই দেয়। অষ্টম-নবম শতাব্দীতে সন্দীপ, রামুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বণিক ও মুবাল্লিগরা ইসলাম প্রচার করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়। তৎকালীন আরব লেখকদের বর্ণনায় সামরূপ (কামরূপ-আসাম) ও রাহমি রাজ্যের কথা এসেছে, যা ৮ম-১২শ শতাব্দীর পাল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাজশাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও কুমিল্লার ময়নামতিতে প্রাথমিক আববাসীয় যুগের মুদ্রা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি লালমণিরহাটে (সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মজদের আড়া গ্রামে) ৬৯ হিজরীতে নির্মিত একটি প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। উপকূলীয় চট্টগ্রাম ( شاطئ الغنغ-গঙ্গা উপকূল) ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানের নাম ও ভাষায় আরবী অপভ্রংশের প্রচুর উপস্থিতি এসব নিদর্শনকে আরো সপ্রমাণিত করে। ইসলাম প্রচারের কাজে এদেশে প্রচুরসংখ্যক আরব, ইরানি ও তুর্কি মুসলমান ও সুফি দরবেশের আবির্ভাব ঘটে। তাঁরা ব্যাপকভাবে এদেশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমেই পরবর্তীকালে বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। সুতরাং এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে, এদেশের মুসলমানরা সবাই তফসিলি হিন্দু বংশধর নয়। হিন্দুদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদেরও অনেকইে ছিলেন রাজ পরিবারের সদস্য। অন্যদিকে, আরবরা এদেশে এসেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে আর সে সময় ব্যবসায়ী অর্থাত্ সাওদাগররা ছিলেন সমাজের শ্রেষ্ঠ সম্মানিত ব্যক্তি। চট্টগ্রামে ঐ সময় একটি মুসলিম রাজ্যও স্থাপিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। এদিকে ভারত থেকে বাবা রতন আল-হিন্দ অথবা রতন আবদুল্লাহ আল-হিন্দ মদিনায় গিয়ে রাসুল সা. এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করে সাহাবা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বলে জানা যায়। শুধু তাই নয়, মালাবারের অনুগত চেরদেশের রাজা চেরম রাসুল সাঃ এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলেও জানা যায়।

সুতরাং বলা যায় যে, হিজরী প্রথম দিকেই বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটেছিল। তবে ঐ সময় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এতদঞ্চলে যারা আগমন করেন তাদের বিস্তারিত বর্ননার ক্ষেত্রে ইতিহাস নীরব। পরবর্তীকালে আগতদের মাত্র কয়েকজনের নাম জানা যায় যারা মূলতঃ মধ্যএশিয়া ও পারস্য থেকে এ দেশে আগমন করেন। শাহ মুহাম্মাদ সুলতান বলখী (১০৪৭খৃ.-বগুড়ার মহাস্থান), শাহ মুহাম্মাদ সুলতান রূমী (১০৫৩ খৃ-নেত্রকোনা), বাবা আদম শহীদ (১১১৯খৃ-মুন্সীগঞ্জ), শাহ মখদুম রুপোশ (১২৮৯খৃ.-রাজশাহী), শাহ নিয়ামত উল্লাহ বুতশিকন (১১২০ খৃ. ঢাকা), জালালুদ্দীন তাবরীযী (১২০৫খৃঃ), তাকীউদ্দীন আল-আরাবী (১২৫০খৃঃ-ধামুরাইরহাট,নওগাঁ), শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (১৩০০ খৃঃ- সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ), শাহজালাল (১৩০৩-সিলেট) প্রমুখ মুবাল্লিগের নাম ইতিহাসে এসেছে যাদের দা‘ওয়াতী তৎপরতায় বর্ণবৈষম্যে অত্যাচারিত ও শাসক নিপীড়নে বিপর্যস্ত হিন্দু ও বৌদ্ধরা ব্যাপকহারে দলে দলে ইসলামের শান্তি ও ন্যাবোর্তা গ্রহণ করেছিল। শুধু তাই নয় এ সময় অনেক শাসক ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে ব্যাপক সহযোগিতা করেন। আবার অনেকে ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করে মুবাল্লিগদের বিতাড়িত করার জন্য অস্ত্রধারণ করেন। অনেক মুবাল্লিগ এ সময় তাদের হাতে প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে বাবা আদম শহীদের নাম উল্লেখযোগ্য। অনেক সময় মুবাল্লিগ ও নওমুসলিমরাও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে এসব রাজাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। ১৩০৩ সালে বিখ্যাত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহঃ) ৩৬০ জন সঙ্গীসহ রণপ্রস্ত্ততি নিয়েই দিল্লি থেকে সিলেটে আগমন করেছিলেন এবং অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করেন। তাঁর উন্নত চরিত্র মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে বাংলার হাজার হাজার হিন্দু-বৌদ্ধ ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

রাজনৈতিক বিজয় (১২০৪-১৭৫৭): ৭১২ খৃষ্টাব্দে বীরযোদ্ধা মুহাম্মাদ বিন কাসিম কর্তৃক সিন্ধু বিজয় ভারতবর্ষে ইসলামের নবযাত্রা শুরু করে। মুলতানকে কেন্দ্র করে তিনি সিন্ধুতে ইসলামী শাসনব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন। এর সুদীর্ঘ ৩০০ বছর পর মুসলমানরা দ্বিতীয় পর্যায়ে অভিযান শুরু করে। গজনীর সুলতান মাহমূদ ১০০০ খৃ. থেকে শুরু করে ১০২৭ খৃ. পর্যন্ত খাইবার গিরিপথ অতিক্রম করে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রত্যেকবারই বিজয় লাভ করেন। তন্মধ্যে ১০২৫-২৭ সালের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির বিজয় ছিল এক দুঃসাহসিক ঘটনা, যা ভারতবর্ষে হিন্দুত্ববাদের প্রতিপত্তি হ্রাস করে দেয় এবং উপমহাদেশে ইসলামের দুয়ার অবারিত করে দেয়। তারপর অতিক্রান্ত হয় আরো ১৫০ বছর। গজনীর ঘোরী বংশের অসম সাহসী বীরপুরুষ মুহাম্মাদ ঘোরী ১১৭৫ সালে ভারতবর্ষে আবার ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। অসাধারণ রণকৌশল প্রদর্শন করে একে একে পাঞ্জাব, সিন্ধু জয় করে তিনি ১১৯২ সালে এক বিরাট যুদ্ধের পর উত্তর ভারতের দিল্লী পর্যন্ত বিজয় সম্পন্ন করেন। অতঃপর কুতুবুদ্দীন আইবেক দিল্লীতে প্রায় শতবর্ষ ব্যাপী তুর্কী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজী বিহার ও বাংলা জয় করেন।এরপর থেকে এদেশে ৫৬৫ বছরেরও অধিককাল অর্থাত্ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে মুসলিম শাসন বহাল থাকে। এ সময়ে প্রায় ৭৬ জন গভর্নর অথবা সুলতান অথবা নাযিম বাংলা শাসন করেন।

ওআইসির ১৪তম সদস্য বাংলাদেশ জনসংখ্যার বিচারে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ৩য় বৃহত্তম এবং আয়তনের দিক থেকে ৩৭তম স্থানে অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত এই দেশটি স্থলে ৪,২৪৬ কি. মি. সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মায়ানমার দ্বারা পরিবেষ্টিত। দক্ষিণে ৭১৪ কি. মি. দীর্ঘ উপকূল জুড়ে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের জনসংখ্যার শতকরা ৮৯.৭% মুসলিম, হিন্দু ৯.৩%, বৌদ্ধ ০.৭%, খৃষ্টান ০.৩%। এছাড়া পাহাড়ী অঞ্চলে কিছু প্রকৃতিপূজারী রয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য

Published

on

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এক দুর্ভেদ্য রহস্যের নাম। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ রহস্যের কিনারা করতে পারেনি কেউ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্যের সমাধান করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ের গবেষকেরা উত্তর মেরুর ব্যারেন্টস সাগরের তলদেশে বেশ কিছু বড় গর্তের সন্ধান পেয়েছেন। আর্কটিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, এই গর্ত বা আগ্নেয়গিরির মুখগুলোর ব্যাস ৩ হাজার ২৮০ ফুট ও গভীরতা ১৩১ ফুট হতে পারে। থ্রিডি সিসমিক ইমেজিং পদ্ধতিতে এই গর্তগুলো শনাক্ত করেছেন তাঁরা। গবেষকেরা বলছেন, তেলের খনি থেকে সৃষ্ট উচ্চ চাপের মিথেন গ্যাসের উদগীরণে এ গর্ত সৃষ্টি হতে পারে।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই আবিষ্কারের ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নামের বিতর্কিত ওই এলাকায় জাহাজ ও বিমানের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারে। এর আগে ২০১৪ সালে সাইবেরিয়ান টাইমসকে দেওয়া রাশিয়ার গবেষক ভ্লাদিমির পোতাপভের এক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়েছে ডেইলি মেইল। পোতাপভের তত্ত্ব অনুযায়ী, মিথেন গ্যাসের উদগীরণ সমুদ্রকে উত্তপ্ত করে। মিথেনযুক্ত পানির কারণে জাহাজ ডুবে যায়। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলেও বিশেষ পরিবর্তনের ফলে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।
এরকম বড় গর্ত থাকতে পারে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে।
এরকম বড় গর্ত থাকতে পারে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল
ক্যারিবীয় সাগরের এক কল্পিত ত্রিভুজ এলাকা হলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ত্রিভুজের তিন বিন্দুতে আছে ফ্লোরিডা, বারমুডা আর প্যুয়ের্তো রিকো। অবশ্য এই বিন্দু নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সে যা-ই হোক, এ অঞ্চলটিকে মারাত্মক রহস্যময় এলাকায় পরিণত করেছে কিছু খবর। বলা হয়, এ ত্রিভুজ অঞ্চলে অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেছে মানুষ, জাহাজ আর উড়োজাহাজ। রেখে যায়নি কোনো ধ্বংসাবশেষ। এসব ‘উড়ো’ খবর নিয়ে গবেষণা হয়েছে, ডকুমেন্টারি বানানো হয়েছে। শেষমেশ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সব রহস্যের অসারতা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু রহস্যপ্রিয় মানুষ এতে বিশেষ খুশি হতে পারেননি। তাঁরা এখনো বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে রহস্যের গন্ধ পান।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যময় চরিত্র প্রথম নিয়ে আসেন ই ভি ডব্লিউ জোনস। ১৯৫০ সালের বার্তা সংস্থা এপি প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জোনস অভিযোগ করেন, এ এলাকায় বেশ কিছু উড়োজাহাজ ও নৌযান বেমালুম উধাও হয়ে গেছে, যেগুলোর কোনো সন্ধান আজ পর্যন্ত মেলেনি। দুই বছর পর ফেট ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়, ১৯৪৫ সালে ফ্লাইট-১৯ নামের মার্কিন নৌবাহিনীর পাঁচটি বোমারু বিমানের একটি বহর উধাও হয়ে গেছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে। এই বহর থেকে শেষ বার্তা ছিল, ‘সবকিছুই খুব অদ্ভুত লাগছে। আমরা জানি না, কোন দিক পশ্চিম। সাগরকেও স্বাভাবিক দেখাচ্ছে না। আমাদের মনে হচ্ছে আমরা…’।

এরপর একের পর এক খবর গত শতকের শেষ পর্যন্ত তুমুল হইচই তুলেছে। যার মধ্যে আস্ত ডিসি বিমান, যাত্রীবাহী জাহাজ পর্যন্ত উধাও হয়ে যাওয়ার খবর ছিল।

তবে এসব খবরের পাশাপাশি ব্যাখ্যাও চলেছে। বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, এর সবই স্বাভাবিক ঘটনা। রং চড়িয়ে বলা হচ্ছে। আবার বলা হয়েছে, দুনিয়াজুড়ে দুর্ঘটনার যে হার, এতে বারমুডায় মোটেও বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে না। কখনো কখনো বারমুডা-সংক্রান্ত খবর তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, খবরটাই ভুয়া। রং চড়িয়ে লেখা হয়েছে ট্যাবলয়েডগুলোতে।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এখনো এক রহস্যের নাম।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এখনো এক রহস্যের নাম।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে কিছু তথ্য
অনেকের মতে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের কাছ থেকে সর্বপ্রথম এলাকাটির বিষয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানা যায়। কলম্বাস লিখেছিলেন, তাঁর জাহাজের নাবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি এবং আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এ ছাড়া তিনি কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশের কথাও বর্ণনা করেছেন।

অনেকে আবার মনে করেন, নাবিকেরা যে আলো দেখেছেন, তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নৌকায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত আগুন এবং কম্পাসে সমস্যা হয়েছিল নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। ১৯৫০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিক ই ভি ডব্লিউ জোনস সর্বপ্রথম এলাকাটি নিয়ে খবরের কাগজে লেখেন। অনেকে মনে করেন, ওই অন্তর্ধানের কারণ নিছক দুর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। তা ছাড়া এই ত্রিভুজের ওপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত বয়ে গেছে। এর তীব্র গতি অধিকাংশ অন্তর্ধানের কারণ। তথ্যসূত্র: ডিসকভারি, দ্য গার্ডিয়ান।

Continue Reading

সর্বশেষ পঠিত

Copyright © 2018 Amaderwap.com