Connect with us

কবিতা

কবিতা : অর্থহীন

Published

on

চির অতৃপ্ত স্বাধ হয়‌তো পাবনা আর
জীবনটা কি শুধুই খেয়ালীপনা?
মন যা চায়, যা চায় না?
না‌ কি কার্তী‌কের শে‌ষে
পুকু‌রের জ‌লে অর্ধডুবু নৌকা?
কা‌লো কা‌ঠে শেওলা‌র স্তর প‌রে ভা‌ড়ি হ‌য়ে ও‌ঠে,
পঁচা কা‌ঠের গন্ধ ভা‌সে নিস্বাসে;
সুজ‌নের পাল চ‌লে গে‌ছে বহু আ‌গে-
আ‌মি আর মাছরাঙা বেনু ব‌নে
‌কিছুক্ষণ ব‌সে থে‌কে তারপর
আমরাও চ‌লে গেলাম দুজন দু‌দি‌কে।
এই কি জীবন? অর্থহীন আলাপচা‌রিতা!
অথবা অন্ধক‌রে হুই‌সে‌লের শব্দ
আমা‌দের নির্ঘুম রাত
কা‌লো শেয়া‌লের চোখ জোনা‌কি ভে‌বে
ভুল ক‌রে‌ছিলাম বহুবার;
অন্ধকা‌রে কি অদ্ভুত জ্বল জ্বল ক‌রে জ্ব‌লে ও‌ঠে;
আ‌লো‌তে আমা‌দের যখন ভয় কে‌টে যায়
তখন দে‌খি এক ভয়ংকর আ‌লো;
এই কি জীবন? এই আ‌লো-আঁধা‌রে ভয় পাওয়া!
ইস্টিমা‌রের শব্দ বহু দূ‌রে আমরা শু‌নে‌ছি অ‌নেক
‌স্থির মাছরাঙা তখ‌নো ব‌সে ডা‌লে
আমরা ছু‌টে পা‌লি‌য়ে‌ছি;
এভা‌বে ক‌তো‌দিন আর? ক‌তো‌দিন এ জীবন;
তবু অ‌নেক দিন কে‌টে গে‌ছে
‌বি‌কে‌লের ঝাঁঝালো রোদ হে‌লে প‌ড়ে‌ছে প‌শ্চি‌মে
ব‌টের ছায়ায় ব‌সে থাক‌া পথিক
হাট‌তে শুরু ক‌রে‌ছে আবার
অন্ধকার আস‌ছে কিছু প‌রেই;
‌থে‌মে যা‌বে প‌থি‌কের পথ সম্মু‌খে-
এই কি জীবন? এই স্থিরতা!

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কবিতা

কবিতা : অষ্টপ্রহর

Published

on

তুমি নেই, রাত্রি অবশেষ রয়ে গেয়ে কিছু
অষ্টপ্রহরে তবু ঘুম ভেঙে যায়, ডাকে পিছু
আয়! আয়!
মুমুর্ষের কাতরতা জ্বেগে ওঠে অন্ধকারে।
এতো ব্যাথা তনু তটে প্লাবনের জোয়ারে আসে!
দুটি কথা যদি বলে যাও, তবে চলে কেন যাবে?
আচলের আচড় সেও আজ বড্ড লাগে;
নয়ন তো নই, তবু এতো স্পর্শ, এতো কাতরতা-
বালির মতো অস্থির লাগে অষ্টপ্রহরে জ্বেগে।
দুঃস্বপ্ন সারারাত দেখি; এতো স্মৃতি আজও আছে!
দেহ মনে পদ্মার ভাঙ্গন যখন ধরেছে- স্মৃতিগুলো ভাঙ্গে না কেন?
অন্ধকার থেকে কালো ছায়া
তনু তটে খাবলে খাবলে তুলে নেয় নরম বালিকা;
আমি পড়ে রই জড়ের ন্যায়, অনড়ের ন্যায়।
কুয়াশা কেটে গেছে- তবু কনকনে শীত এখনো
হাড়ের ভেতর থেকে অনুভব করি বৃদ্ধের চোখের ভাজে
কালো মানিকের উপর ছানি পড়েছে তার;
অষ্টপ্রহরে দিব্যি ঘুমিয়ে নিচ্ছে, চোখের ভাজে কিছুটা সমতল-
তাকাতে নেই; তবু চোখ মেলে তাকাই; দেখি
অন্ধকার!
কি গভীর সে অন্ধকার!
এখানে চোখের মূল্য নেই কোন-
তনু তট হতে কম্পিত বাহু বিছানায়
প্রতি নিঃশ্বাসে দ্বিক-বিদ্বিক অস্থির ছুটে চলে;
প্রচণ্ড ব্যাথা! কি অসহ্য যন্ত্রনা-
একটা ইস্পাত ধার ছুরি বুকের মধ্যখানে বসিয়ে দিতে স্বাধ জাগে
মুক্তি দিতে স্বাধ জ্বাগে ব্যাথা সব।
আলো! আলো!
বিছানার নরম চাদর শক্ত মুষ্টির ভেতর কুচকে আছে-
নাহ্ কেউ নেই, কিছু নেই্
আলো! আমায় তুমি এক মুঠো আলো দিবে?
তীব্র পিপাসায় তনু শুকিয়ে খড় হয়ে আছে;

Continue Reading

কবিতা

কবিতা : কোন একদিন

Published

on

কোন একদিন হয়তো আমি স্থির হবো আকাশের তলে,
থেমে যাবে পা, চোখের পাপড়ি আর খুলবে না বাতাসে।
বড় তৃপ্ত হবো সেদিন-
বিশ্রম নিবে ক্লান্ত দেহখানা, ক্লান্ত চোখ
ধুলি মাখা দুটি পা, ছেড়া জুতো;
তবু যতোকাল আছি দেখে যাবো আকাশ, পুকুরের জল,
পাখির নরম পালক ঘাসের উপর এক-
দেখে যাবো আলো, অন্ধকার কালো কুয়াশা
দেখে যাবো গাছের সবুজ পাতা, শিশিরের বিন্দু রাতের নক্ষত্রের মতো
দেখে যাবো তোমাকে- আকাশের কালো মেঘের মতো কালো চুল
অবুঝের মতো বড় বড় দুটি চোখে তোমার তাকিয়ে থাকা কিছুক্ষণ,
অনুভব করবো তোমাকে- শীতল জলের মতো স্পর্শ তোমার
আমি শিহরিত হবো প্রতিবার;
আমি চলে যাবো তবু এইসব রয়ে যাবে বহুকাল-
এই বেল, নীম গাছের নীল থোকা ফুলের দিকে আমার চেয়ে থাকা বহুক্ষণ;
বিকেলের বাতাসে তাদের ঝড়ে পড়া।
শীতল বাতাসে শিহরীত হবো না আর কোন একদিন,
কখনো বাতাসে পুরনো দিনের গন্ধ যদি ভেসে আসে
বুক ভরে টেনে নিব না আর; তবু যতোদিন বেঁচে আছি
একা পথে ধুলি মাখা ক্লান্ত দুটি পা, আমার ছেড়া জুতো-
আমি হেটে যাবো, চেয়ে রব ক্লান্ত চোখে দূরে।

Continue Reading

কবিতা

কবিতা : বন্ধু তোমায় না বলা কথা

Published

on

আরও একটি কবিতার জন্ম হলো।
আরও কতোগুলো কবিতা হারিয়ে গিয়েছে জানো তুমি?
ধারণা করতে পার? পারছ না তো!
আমিও পারছি না। সেই পুরনো মন-ভুলো সমস্যা এখনো যে রয়ে গেছে।
যখন সকলে ছেড়ে যায় তখনো কেউ আকড়ে ধরে,
বেঁচে থাকার স্বাদ জ্বাগে আবার।
কিন্তু কখনো তো একাকিত্তে নিজেকে অসহায় ভাবিনি আমি!
কৈ কোন বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আড্ডায় ছুটে তো যাই নি-
তবু কেন এমন হয়, কেন হয়েছিল এমন?
কৈ তুমি তো কখনো আমার বিশ্বাসের সুযোগ নেওনি,
কৈ তুমি তো মুহুর্তের জন্যও আমাকে হৃদয় হতে সরিয়ে রাখনি,
মাঝে মধ্যে কখনো বারান্দায় কিংবা ছাদে গিয়ে দাড়ালে আমাকেই তো ভাবতে
রাতের চাঁদ, টবের ছোট্ট নাম না জানা নীল ফুল, তোমার নীল কলম,
তোমার হাত ঘড়ি, চিড়ুনি, আয়নার সামনে বসে মুচকি হাসি-
ভোরের আলো, রাতের আঁধার সর্বত্র আমায় তুমি চাদরের মতো জড়িয়ে নিয়েছিলে।
কিন্তু আমি কেন ছিলাম এমন?
যখন ওই তিনির সাথে কথা বলতাম, ও মিষ্টি করে হেসে দিতো
কখনো সন্ধ্যায় আমাকে বলতো, “আমাকে একটু কোচিং এ পৌছে দিবে তুমি?“
আমি কেন না বলতে পারতাম না?
আমি, তিনি আর মনিকা যখন একসাথে কোচিং এর পথে হাটতাম
কেন জানিনা তিনিই আমার পাশেই হাটতো।
আমি বুঝতে পারতাম না তাকে।
কিন্তু কি ঝড় বয়ে যেতো হৃদয়ে তা জানলে তুমি খুব কষ্ট পেতে।
আমরা তো খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। তবু কেন বলতে পারিনি তোমাকে?
আবার মনিকা যখন ইসিতাকে নিয়ে আমার সাথে মজা করতো
তখনো জানো মনে মনে কোথায় যেন হারিয়ে যেতাম।
কতো রাত আকাশে চাঁদ দেখতে দেখতে ইসিতাকে ভেবেছি তা ভুলে গেছি।
কিন্তু বলতে তো পারিনি তোমাকে এসব।
আচ্ছা কেন পারিনি?
তুমি কি মারতে আমায়? না মারতে না তো!
আমার থেকে দূরে চলে যেতে? না তাও নয়!
আমাকে প্রতারক বলতে? না তাও বলতে না!
আমি কি কখনো ভয় পেয়েছি তোমাকে? না পাইনি তো।
তুমি বহুবার অভিমান করেছিলে; কিন্তু রাগ করেছিলে কখনো?
মনে পড়ছে না।
তুমি বলেছিলে আমরা বন্ধু ছিলাম, আছি এবং থাকবো চিরকাল।
তুমি তোমার কথা রেখে এসেছ। কিন্তু আমি কি কাপুরুষ! ছি!
তুমি তো ছিলে এমন একজন,
যার কাছে সকল অপরাধের শাস্তি নির্মল ভালোবাসা।
তবু কেন আমি তোমার থেকে দূরে সরে গেলাম?
এই ‘কেন‘ এর উত্তর আমি জানি। কিন্তু বলতে পারবো না কোনদিন।
যেমন বলতে পারিনি তোমার জন্য আমার নির্ঘুম রাতের কথা,
তোমাকে একটি নজর দেখার লোভে পুরু সাপ্তাহ কোচিং এর বিরক্তিকর ক্লাসে যাওয়ার কথা
যেমন বলতে পারিনি তোমাকে নিয়ে আমার লেখা চিঠিগুলোর কথা,
আমার কবিতার কথা,
তোমাকে বলতে পারিনি ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকার কথা-
যেমন বলতে পারিনি ক্লাসের ফাঁকে আড় চোখে তোমাকে দেখার কথা,
আকাশের কথা, বাতাসের কথা, মেঘের কথা, পাখির কথা, ফুলের কথা
তোমাকে বলতে পারিনি, বলতে না পারার যন্ত্রনার কথা।
তোমাকে বলতে পারবো না আজকে লেখা আমার এই কবিতার কথা।
তবু তুমি ভালো থেকো বন্ধু আমার, ছিলে, আছো, থাকবে চিরকাল।

Continue Reading

সর্বশেষ পঠিত

Copyright © 2018 Amaderwap.com